উপরের সারণীতে আপনার নির্বাচিত শহরের জন্য আজকের শুভ চৌঘড়িয়া (Subha Choghadiya) প্রদর্শিত হচ্ছে—দিনের আটটি এবং রাতের আটটি সময়খণ্ড, যার প্রতিটিতে অমৃত, শুভ, বা লাভের মতো শাস্ত্রীয় গুণমান যুক্ত রয়েছে। এই সময়সূচি স্থানীয় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের ভিত্তিতে গণনাকৃত, ফলে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রতিটি চৌঘড়িয়ার সময়সীমা দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত হয়। আপনার অবস্থানের সময় দেখতে 'বর্তমান অবস্থান ব্যবহার করুন' (𖦏) নির্বাচন করুন; সারণীটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হবে।
শুভ চৌঘড়িয়া কী?
চৌঘড়িয়া (যাকে চৌগড়িয়া বা শুভ চৌঘড়িয়াও বলা হয়) হলো ভারত ও প্রবাসী ভারতীয় সমাজে প্রচলিত একটি দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সময়-নির্বাচন পদ্ধতি। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দিনমানকে এবং সূর্যাস্ত থেকে পরবর্তী সূর্যোদয় পর্যন্ত রাত্রিমানকে আটটি করে সমান ভাগে ভাগ করা হয়। প্রতিটি ভাগ একটি নির্দিষ্ট চক্রাকার নাম পায়, যা নির্দেশ করে যে সংশ্লিষ্ট সময়টি কোনো নতুন কাজের জন্য অনুকূল, নিরপেক্ষ, নাকি বর্জনীয়। উপরের সারণীটি এই লেবেলগুলোকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে, যাতে আপনি কোনো যাত্রা শুরু, দোকান বা ব্যবসা খোলা কিংবা দৈনন্দিন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে সঠিক শুভ সময় বেছে নিতে পারেন।
দিন ও রাতের চৌঘড়িয়ার গণনাপদ্ধতি
গণনা সর্বদা আপনার অবস্থানের প্রকৃত আকাশের সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত থেকে শুরু হয়। দিনের চৌঘড়িয়া সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এবং রাতের চৌঘড়িয়া সূর্যাস্ত থেকে পরবর্তী সূর্যোদয় পর্যন্ত বিস্তৃত। উভয় অংশকে আটটি সমান ভাগে ভাগ করা হয়, তাই গ্রীষ্মকালের দিনের একটি স্লট শীতকালের একই শহরের স্লটের চেয়ে দীর্ঘ হয়। সপ্তাহের দিন (বার) নির্ধারণ করে যে সূর্যোদয়ের পর প্রথম স্লটটির নাম কী হবে; এরপর নির্ধারিত সাতটি নামের একটি চক্র আটটি অংশের মধ্যে আবর্তিত হতে থাকে।
সাত প্রকার চৌঘড়িয়া
দিন ও রাতের আটটি স্লটে সাতটি শাস্ত্রীয় নাম পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়। সারণীতে প্রদর্শিত নামগুলোর তাৎপর্য নিচে তুলে ধরা হলো:
অমৃত (Amrit)
সর্বাধিক শুভ ও কল্যাণকর চৌঘড়িয়া হিসেবে বিবেচিত—নামেই এর অমিয় গুণ স্পষ্ট। যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু করা, মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান এবং দীর্ঘমেয়াদে সাফল্য প্রত্যাশিত এমন উদ্যোগের জন্য এটি অত্যন্ত অনুকূল।
শুভ (Shubh)
'শুভ' অর্থ মঙ্গলময়। ইতিবাচক সূচনা, ধর্মীয় কাজ, সৎকর্ম এবং মঙ্গলজনক পরিবেশ কাম্য এমন যেকোনো কাজের জন্য এটি উপযুক্ত সময়।
লাভ (Labh)
'লাভ' অর্থ সমৃদ্ধি বা প্রাপ্তি। নতুন ব্যবসা উদ্বোধন, আর্থিক চুক্তি স্বাক্ষর, লেনদেন এবং যে কাজে আর্থিক বা বস্তুগত অগ্রগতির প্রত্যাশা থাকে, তার জন্য এটি আদর্শ সময়।
চল বা চর (Chal / Char)
'চল' বা 'চর' গতিশীলতা নির্দেশ করে। ভ্রমণ শুরু করা, বাসস্থান পরিবর্তন, দূরবর্তী যাত্রা বা যেকোনো স্থান পরিবর্তনের কাজের জন্য এটি ঐতিহ্যগতভাবে উপযুক্ত।
উদ্বেগ (Udveg)
উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বা মানসিক অশান্তির ইঙ্গিত দেয়। কোনো বড় প্রতিশ্রুতি বা নতুন উদ্যোগের জন্য এটি পরিহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়, তবে রুটিনমাফিক কাজ চালিয়ে যাওয়া যায়।
রোগ (Rog)
রোগ অসুস্থতা বা ব্যাধি নির্দেশ করে। নতুন চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচার শুরু করা কিংবা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সূচনার ক্ষেত্রে ঐতিহ্যগতভাবে এই সময়টি বর্জনীয়।
কাল (Kaal)
কাল ক্ষতি বা বাধার প্রতীক। রোগ ও উদ্বেগের মতো এটিকেও নতুন কোনো উদ্যোগ বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে অশুভ বলে মনে করা হয়।
চৌঘড়িয়া, হোরা ও গৌরী পঞ্জিকার মধ্যে পার্থক্য
এই তিনটি পদ্ধতিই সূর্যোদয় থেকে দিনকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে, তবে তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। শুভ হোরা সূর্যোদয় থেকে ক্যালডীয় ক্রমে চব্বিশটি গ্রহের ঘণ্টা নির্ধারণ করে—যা গ্রহের স্বভাবের সাথে কাজের সমন্বয় করতে সাহায্য করে। চৌঘড়িয়া প্রতি অর্ধ-দিনকে আটটি ভাগে ভাগ করে শুভ/অশুভ লেবেল দেয়—যা ভ্রমণ বা ব্যবসা শুরুর জন্য একটি দ্রুত 'হ্যাঁ' বা 'না' নির্দেশক। আর গৌরী পঞ্জিকা হলো একই চৌঘড়িয়া পরিবারের দক্ষিণ ভারতীয় রূপ, যা তামিলনাড়ুতে প্রায়শই 'নল্লা নেরম' নামে পরিচিত। সাধারণ শুভ/অশুভ সময়ের জন্য চৌঘড়িয়া এবং গ্রহের প্রভাব বিবেচনায় হোরা ব্যবহার করুন।
দৈনন্দিন জীবনে চৌঘড়িয়ার ব্যবহার
দীর্ঘ যাত্রার আগে অনেকেই 'চল' বা 'অমৃত' চৌঘড়িয়ার সন্ধান করেন। ব্যবসায়ীগণ নতুন ক্যাশ কাউন্টার খোলা বা চুক্তি সাক্ষরের জন্য 'লাভ' বা 'শুভ' সময়কে প্রাধান্য দেন। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা বা অফিসে যাওয়ার মতো সাধারণ কাজে চৌঘড়িয়া দেখার কোনো প্রয়োজন হয় না—এই নিয়মগুলো মূলত এমন সব সূচনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা সহজে ফেরানো যায় না। দিন ও রাতের সম্পূর্ণ দৃশ্য এক নজরে দেখে আপনার পরিকল্পনামাফিক সেরা সময়টি বেছে নেওয়া সহজ হয়।
এই সময়সূচি কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
আপনার ভৌগোলিক স্থানাঙ্কের ভিত্তিতে সুইস এফিমেরিস থেকে প্রাপ্ত সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মাধ্যমে গণনার সূচনা হয়। এরপর শাস্ত্রীয় বারভিত্তিক নিয়ম মেনে সাতটি নামের চক্র সাজানো হয়। সঠিক টাইম-জোন ও ডেলাইট সেভিং টাইম ব্যবস্থাপনার কারণে বিদেশের মাটিতেও ঘড়ির সময় শতভাগ সঠিক থাকে।



